" သင့္၏ မိုဘိုင္းဖံုး ဘေရာ္စာတြင္ www.rohingyanewsbank.com ကို ရိုက္၍ အလြယ္တကူ ဖတ္ရွဳ နိုင္ပါသည္ "

Saturday, August 25, 2018

( 25.08.2018 ) দ্রুত সমাধানের লক্ষণ নেই

দ্রুত সমাধানের লক্ষণ নেই

এক বছর হয়ে গেল মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের সামনে এক মধ্যবয়সী পুরুষ। ছবি: এএফপি

ঠিক এক বছর আগে সন্ত্রাসী সংগঠন আরসার হামলাকে সামনে এনে রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করার অভিযানে নেমেছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী। মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে জীবন বাঁচাতে মরিয়া সোয়া চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ২৫ আগস্টের রাত থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নারকীয় নৃশংসতা শুরু করেছিল, পুরো বিশ্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তা চালিয়ে গেছে মাসের পর মাস। এর ফলে গত এক বছরে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গার ঠাঁই হয়েছে বাংলাদেশে।



জাতিগত নিধনের’ পাঠ্যপুস্তকে পাওয়া দৃষ্টান্তের সঙ্গে তুলনীয় নারকীয় হত্যা, বর্বরতা আর গ্রামের পর গ্রাম নিশ্চিহ্ন করার বিষয়ে বিশ্বসম্প্রদায় উচ্চকণ্ঠ রয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের বিভক্তির কারণে জাতিসংঘ ওই নৃশংসতার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্দিষ্ট করে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবিও জোরালো হচ্ছে।

এমন এক প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নিজেদের অপকর্মের ব্যাপারে বিচলিত হয়নি। সেই সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিশেষত শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি সেনাবাহিনীর ‘রোহিঙ্গা নিধনের’ পক্ষেই কথা বলেছেন। এ রকম এক বাস্তবতায় রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানকে এ মুহূর্তে দুরূহই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান অর্থাৎ মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হলে তাদের বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে ফেরত পাঠানো টেকসই হবে না; বরং ১৯৭৮, ১৯৯২, ২০১২ আর ২০১৬ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে রোহিঙ্গারা আবার রাখাইন থেকে বাংলাদেশে চলে আসবে।

রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী কর্মকর্তাদের নিয়ে মিয়ানমার সফর করেন। ওই সফরে তিনি রাখাইনেও গেছেন।

রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানোর মতো পরিবেশ যে এখনো হয়নি, তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতিসংঘও বলেছে। কারণ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য জুন মাসে ইউএনডিপি আর ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে চুক্তি সই করেও দুই সংস্থার প্রতিনিধিদের অবাধে রাখাইনে যেতে দিচ্ছে না মিয়ানমার। মাস তিনেক আগে সই করা ওই চুক্তি শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়ে কি না—ইয়াঙ্গুনের কূটনৈতিক মহল এরই মধ্যে এই প্রশ্ন তুলছে।

ঢাকায় জাতিসংঘের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার এই প্রতিবেদককে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে হতাশার কথা জানান। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমার নিজেদের মধ্যে গত বছরের নভেম্বর চুক্তি সই করে। এরপর বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারিতে এবং মিয়ানমার গত জুনে জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি সই করে। চুক্তি অনুযায়ী জাতিসংঘের কর্মকর্তা ও কর্মীদের অবাধে রাখাইন যাওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র দুবার রাখাইনে গেছেন জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা। সেখানে গিয়ে রাখাইনে এখন যেসব রোহিঙ্গা রয়েছে, তাদের চোখেমুখে তাঁরা আতঙ্ক দেখতে পেয়েছেন। ওই সব লোকের চলাফেরা সীমিত। বন্ধু ও পরিবারের পাশাপাশি রাখাইনের অন্য সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে তারা মেলামেশার সুযোগ পাচ্ছে না

প্রকাশ্য সু চির মনোভাব

গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেও রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে সব সময় নীরব থেকেছেন সু চি। মিয়ানমারের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া রাজ্য রাখাইনের উন্নয়নের জন্য তিনি ২০১৬ সালের আগস্টে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করেছিলেন। অথচ আড়ালের আলোচনায় সু চি বলেছেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অধিবাসী নয়।

তবে গত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের বক্তৃতায় রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে নিজের অবস্থান আরও প্রকাশ্য করেন মিয়ানমারের এই স্টেট কাউন্সেলর। সু চি এ সময় প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না নিলেও এর দায় পুরোপুরি বাংলাদেশের ওপর চাপাতে চেয়েছেন। সু চি বলেছেন, ‘আমাদের পক্ষে একতরফাভাবে প্রত্যাবাসনের সময় বেঁধে দেওয়াটা খুব কঠিন। কারণ, এখানে আমাদের বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।’

সু চির সিঙ্গাপুরের ওই বক্তৃতার পর মনে করা হচ্ছে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে দেশটি মোটেই আন্তরিক নয়। যা কিছু করছে, তার একমাত্র উদ্দেশ্য বিশ্বসম্প্রদায়ের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া। কারণ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন শুধু প্রত্যাবাসনের কথাই বলছে না; এর সঙ্গে সঙ্গে রোহিঙ্গা নিপীড়নে যুক্ত লোকজনের বিচারের প্রসঙ্গটিও আনছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। মিয়ানমার এখন জবাবদিহির বিষয়টি এড়িয়ে যেতে প্রত্যাবাসনের জন্য তৈরি থাকার কথা বলছে।

ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের সমন্বয়কারী ও জার্মানিতে নির্বাসিত নে সেন লুইন গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, রোহিঙ্গাদের রাখাইনের আদি নিবাসে ফেরানোর কোনো পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি মিয়ানমারের নেই। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার পর শিবিরে রাখা হবে। তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাও নেই। কিন্তু এনভিসি বা জাতীয়তা যাচাই পত্র দেওয়ার কথা হচ্ছে, যা মূলত বিদেশিদের দেওয়া হয়। কাজেই আন্তর্জাতিক সুরক্ষা না থাকলে রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে যাবে না।

বাংলাদেশের উদাত্ত সহযোগিতা

রোহিঙ্গা-ঢলের শুরু থেকেই এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত খোলা রেখেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাসস্থানের জন্য বনভূমিসহ প্রায় ছয় হাজার একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুরুতে কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে বাংলাদেশ এসব রোহিঙ্গার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি খাবার, ওষুধ, পানিসহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করে আসছে। পরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা বাংলাদেশ গ্রহণ করেছে। পাহাড়ের ওপরে ঝুঁকিতে থাকা রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নিতে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে ভাসানচরে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

সামগ্রিক বিষয়ে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে বাংলাদেশ সব সময় দায়িত্বশীল প্রতিবেশীর আচরণ করে আসছে। এ সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গেও যুক্ত আছে বাংলাদেশ। তবে সমস্যাটা এত জটিল যে এর স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি জোরালো এবং সময়সূচিভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিভিন্ন উদ্যোগকেও কাজে লাগাতে চায়।

নিরাপত্তা পরিষদ যখন মিয়ানমার প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত, সেখানে জাতিসংঘ নিয়ে আশাবাদের সুযোগ কোথায় জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব ইন্টারন্যাশনাল, ইম্পার্শিয়াল অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্ট মেকানিজমের (আইআইআইএম) প্রসঙ্গ টানেন। সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্ত ও বিচারের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আইআইআইএম গঠন করে। কাজেই সিরিয়ার দৃষ্টান্তের ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর মিয়ানমারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1554925/%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A3-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87

No comments:

Post a Comment

/* PAGINATION CODE STARTS- RONNIE */ /* PAGINATION CODE ENDS- RONNIE */